রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ লাইভ টিভি ই-পেপার

কপিরাইট © ২০২৬ পায়রা টিভি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বাংলাদেশি নাগরিকদের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ৬৪৬ ডলার: বিশ্বব্যাংক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (ভেরিফাইড) | ৫ ঘণ্টা আগে | ২৪ বার পড়া হয়েছে
ফন্ট:

বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক ঋণ প্রতিবেদন ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে। গত এক দশকে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। এতে গড়ে প্রত্যেক বাংলাদেশির মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪৬ ডলার।

দেশের অর্থনীতিতে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের চাপ। উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেওয়া বিদেশি ঋণের পরিমাণ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এ উঠে এসেছে এমনই চিত্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ৩৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক দশকে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। আগের বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।

১৭ কোটি ৫৭ লাখ জনসংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করলে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৪৬ ডলার। তবে এই হিসাব প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত ঋণ নয়; বরং দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের একটি গড় হিসাব।

মোট ঋণের মধ্যে সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ ৮৯ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। বেসরকারি অ-গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

ঋণদাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা আইডিএর কাছে বাংলাদেশের ঋণ ২২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক—এডিবির কাছে ১৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতাদের মধ্যে জাপানের কাছে সবচেয়ে বেশি, ১২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার কাছে রয়েছে ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

শুধু ঋণের পরিমাণ নয়, রপ্তানি আয় ও জাতীয় আয়ের তুলনায় ঋণের বোঝাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে রপ্তানি আয়ের ২১০ শতাংশ এবং মোট জাতীয় আয়ের ২৪ শতাংশ।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গড়ের তুলনায়ও বাংলাদেশের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেশি। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের গড় মাথাপিছু ঋণ ছিল প্রায় ৫৬৪ ডলার। সেখানে বাংলাদেশের পরিমাণ ৬৪৬ ডলার। ভারতের মাথাপিছু ঋণ প্রায় ৫২২ ডলার এবং নেপালের ৪০১ ডলার।

তবে শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপের তুলনায় বাংলাদেশের মাথাপিছু ঋণ কম। মালদ্বীপে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৮ হাজার ৯৫৭ ডলার, ভুটানে ৪ হাজার ২১৮ এবং শ্রীলঙ্কায় ২ হাজার ৬৪৫ ডলার।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ ২০২৫ সালে বেড়ে রেকর্ড ৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই বছর এসব দেশকে ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের কাছে বড় প্রশ্ন এখন ঋণের পরিমাণ নয়, বরং এই ঋণ কতটা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে এবং তা থেকে ভবিষ্যতে কতটা আয় আসছে। কারণ বৈদেশিক ঋণ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করলেও অপরিকল্পিত ব্যয় ও ঋণ পরিশোধের চাপ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অর্থনীতি

মন্তব্যসমূহ (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!

বাংলাদেশি নাগরিকদের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ৬৪৬ ডলার: বিশ্বব্যাংক

০৮ November ২০২৬
পায়রা টিভি
www.payratv.com payratv payratvbd
প্রতি মুহূর্তে সত্যের সন্ধানে
পায়রা টিভি