বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, বাংলাদেশের উপকূলে সতর্কতা; পায়রাসহ ৪ বন্দরে ২ নম্বর সংকেত
ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি আঘাতের পূর্বাভাস বাংলাদেশের জন্য না থাকলেও উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’তে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।
রোববার (১ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী হতে পারে। পরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর গভীর রাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে তা ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
বিশেষ করে পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সমুদ্রের পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলমুখী। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় সমুদ্র এলাকায় উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জেলে, নৌযান ও সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পাদকের পরামর্শ: এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি। বরং পায়রাসহ চার বন্দরের সংকেত, দক্ষিণাঞ্চলের জেলে ও নৌযান চলাচলের সতর্কতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকাশের আগে ২ নভেম্বরের নতুন আবহাওয়া বুলেটিন অনুযায়ী সংকেত ও অবস্থান হালনাগাদ করবেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর
মন্তব্যসমূহ (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!