সাবেক বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: বাবার মামলা, গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ
বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করেছেন তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম। রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে করা এ মামলায় তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে নৌ-পুলিশ।
শুক্রবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হেফাজত থেকে দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পুলিশের মিডিয়া শাখার পুলিশ সুপার মাসুমা আক্তার।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর উত্তরখান থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় হত্যা, আলামত গোপন এবং পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট এলাকার বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, বন্ধু দীপের সঙ্গে দেখা করে ফিরবেন। বাসার সিসিটিভি ফুটেজে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে দীপকে গ্যারেজে আসতে এবং সাত মিনিট পর দুজনকে আলাদা মোটরসাইকেলে বের হতে দেখা যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ।
পরিবারের দাবি, বুধবার রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের মোবাইল ফোন থেকে তাঁর মায়ের কাছে একটি ভয়েস মেসেজ আসে। সেখানে বলা হয়, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ এটিই ছিল পরিবারের কাছে পাওয়া তাঁর শেষ বার্তা।
এর কয়েক ঘণ্টা পর টঙ্গীর রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এদিকে তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা। গত বৃহস্পতিবার রাতে পিবিআই ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, মাজার বস্তি এলাকায় অবস্থানকালে কয়েকজন তাঁদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন এবং তিনি নিজে পালিয়ে যান। তবে কারা তাঁদের ধাওয়া করেছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দীপের দেওয়া তথ্য সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন বাবা এনায়েতুল করিম। তাঁর দাবি, তাহসিফকে হত্যা করে মরদেহ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তাঁর ছেলে নদে ঝাঁপ দিয়েছেন—এমন বক্তব্যও বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি।
তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।



