শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ লাইভ টিভি ই-পেপার

কপিরাইট © ২০২৬ পায়রা টিভি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

রাঙ্গাবালীতে খাসজমি দখলের প্রতিবাদে ভূমিহীনদের মানববন্ধন, বাধা দেওয়ার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (ভেরিফাইড) | ১ ঘণ্টা আগে | ২০ বার পড়া হয়েছে
ফন্ট:

উপজেলা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা এলাকায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখল করেছে একটি প্রভাবশালী মহল। এলাকার প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করায় ফুসে উঠছেন ভূমিহীনরা। প্রভাবশালী মহলটি দলীয় নাম ব্যবহার করে নামে বেনামে ৬৭টি প্রক্কলনে ১০৫ একর খাস জমি একসনা ডিসিয়ার নিয়ে প্রায় ৫০০ একর খাস জমি দখল করেছেন। এর প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে চরলতার ভূমিহীন কৃষকরা একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। স্থানীয় ভূমিহীন পরিবারের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হলেও প্রভাবশালী মহলের বাধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চরলতার ভূমিহীন কৃষকদের সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. ঈসা গাজী (মৃত আবদুর রব গাজীর ছেলে), কৃষক দলের সহসভাপতি বাহাউদ্দীন গাজী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল দালালসহ স্থানীয় কিছু নেতার বিরুদ্ধে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক রশিদ মিয়া  অভিযোগ বলেন, এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলোকে না জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে নামে ও বেনামে ৬৭টি প্রাক্কলনে প্রায় ১০৫ একর সরকারি খাসজমি একসনা ইজারা এনেছেন। এ চক্রটি চালিতাবুনিয়া এলাকায় হাট-ঘাট, খাল ও খাসজমি দখল এবং শালিস বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া চরলতা এলাকার প্রায় ৫০০ একর সরকারি খাসজমি এসব ভূমিদস্যু দখল করে রেখেছেন। তাদের এমন কার্যকলাপে এলাকার সাধারণ ভূমিহীন ও দিনমজুর পরিবারগুলো চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এছাড়াও শুক্রবার এ অনিয়মের প্রতিবাদে ভূমিহীন পরিবারগুলো মানববন্ধন করতে গেলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বাধায় তা পণ্ড করার চেষ্টা করে। পরে ভূমিহীনদের তোপের মুখে প্রভাবশালী মহলটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

অভিযোগের বিষয়ে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ঈসা গাজী জানান, তারা রাঙ্গাবালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে ৬৭ জন লোকের নামে ১০৫ একর খাসজমি একসনা ইজারা নিয়েছেন। তালিকায় নিজের নাম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে তার নিজের নাম নেই, তবে ওই এলাকার ৬৭ জন মানুষের নামে তরমুজ চাষাবাদের জন্য সরকারের কাছ থেকে এই জমি এনে দেওয়া হয়েছে।

তবে চরলতার ভূমিহীন কৃষক মো. জাফর সিকদার ও আলম জানায়, সম্পূর্ণ গোপনে ও জালিয়াতির মাধ্যমে নামে-বেনামে এই জমি ইজারা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এই জমি স্থানীয় প্রকৃত ভূমিহীনদের না দিয়ে বিভিন্ন এলাকার লোকজনের কাছে তরমুজ চাষের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হচ্ছে। অতি দ্রুত এই বিতর্কিত ইজারা বাতিল করে সরকারি খাসজমি ও খাল উদ্ধার করা হোক এবং প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারের মাঝে চাষাবাদ ও বসবাসের জন্য তা বণ্টন করা হোক।

এ প্রসঙ্গে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হাসান বলেন, চালিতাবুনিয়ার চরলতার বিষয়টি আমি জেনেছি। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে সেখানে যেতে পারিনি। তবে যে কোন সময় আমি খাস জমি উদ্ধারের অভিযান চালাবো। 

অপরাধ ও অনুসন্ধান

রাঙ্গাবালীতে খাসজমি দখলের প্রতিবাদে ভূমিহীনদের মানববন্ধন, বাধা দেওয়ার অভিযোগ

৩১ October ২০২৬
পায়রা টিভি
www.payratv.com payratv payratvbd
প্রতি মুহূর্তে সত্যের সন্ধানে
পায়রা টিভি