প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে 'শ্রেষ্ঠ গ্রাম পুলিশ' সম্মাননা পেলেন গলাচিপার শংকর
তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অবদানের স্বীকৃতি; জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননায় গর্বিত গলাচিপাবাসী
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) শংকর হাওলাদার অর্জন করেছেন জাতীয় পর্যায়ের ‘শ্রেষ্ঠ গ্রাম পুলিশ সম্মাননা-২০২৬’। তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সঠিক সময়ে সরকারি সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকায় আয়োজিত গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক ও সনদ গ্রহণ করেন শংকর হাওলাদার। দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন শংকর হাওলাদার। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরিতেও ভূমিকা রাখছেন তিনি।
জানা যায়, নিয়মিত থানার চৌকিদার প্যারেডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালনে তাঁর আন্তরিকতা, কর্মতৎপরতা ও নিষ্ঠা সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
তবে তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অবদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা। স্থানীয় পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং নিবন্ধন কার্যক্রমে সহযোগিতার মাধ্যমে সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করেছেন তিনি।
তাঁর অবদানসহ সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের জন্মনিবন্ধন কার্যক্রমে রতনদী তালতলী ইউনিয়ন সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করে। একই সময়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে গলাচিপা উপজেলা দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ সাফল্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শংকর হাওলাদারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ গ্রাম পুলিশ সম্মাননা-২০২৬’ অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের জনসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি মিলেছে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মীর নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতা যে জাতীয় পর্যায়েও মূল্যায়িত হতে পারে, শংকর হাওলাদারের এই অর্জন তার একটি দৃষ্টান্ত।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রাম পুলিশরা ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, প্রশাসনিক তথ্য আদান-প্রদান এবং সরকারি সেবা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শংকর হাওলাদারের এ অর্জন অন্য গ্রাম পুলিশদেরও দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করবে।
একজন তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি কর্মী হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে এমন সম্মাননা অর্জনে আনন্দিত রতনদী তালতলী ইউনিয়নসহ গলাচিপা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই স্বীকৃতি তাঁকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনসেবায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে জাতীয় পর্যায়ের এ স্বীকৃতি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন শংকর হাওলাদার। তিনি বলেন, “গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সব সময় চেষ্টা করেছি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের পাশে থাকতে। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের সেবা করাকেই নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এ অর্জন আমাকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনসেবায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।”
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজার মোঃ ইজাজুল হক বলেন, “শংকর হাওলাদার তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে যথাযথভাবে পালন করেছেন। আজকের এ সম্মাননা তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার যথার্থ স্বীকৃতি। তাঁর এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত গৌরবের বিষয় নয়, বরং উপজেলা প্রশাসন তথা সমগ্র গলাচিপা উপজেলার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। আমি আশা করি, শংকর হাওলাদারের এ অর্জন গলাচিপা উপজেলার সব গ্রাম পুলিশকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর এ সাফল্য অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁর প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।” শংকরের এ অর্জনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, জাতীয় পর্যায়ের এ স্বীকৃতি তাঁকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনসেবামূলক কাজে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে তাঁর এ সাফল্য গ্রাম পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক অনুপ্রেরণা জোগাবে।




মন্তব্যসমূহ (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!