‘জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে মোদি-অমিত শাহ ক্ষমতায় আসতে পারতেন না’: রাহুল গান্ধী
ভোট চুরির অভিযোগে দিল্লিতে বিরোধী জোটের সমাবেশ, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে উত্তাল ভারতের রাজনীতি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, ভোট চুরির মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, এটি সাধারণ কোনো চুরির ঘটনা নয়; বরং দেশের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর ও গণতান্ত্রিক অধিকার চুরির শামিল। তাঁর ভাষায়, দোকান থেকে কোনো কিছু চুরি হলে সেটিকে চুরি বলা হয়, কিন্তু এখানে চুরি করা হচ্ছে মানুষের ভোট ও মতপ্রকাশের অধিকার। আইনের ভাষায় এটি বিরলতম অপরাধ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।
সমাবেশে উপস্থিত বিরোধী জোটের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে যে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তা ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই কণ্ঠস্বর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; এটি ভারতের তরুণ সমাজ, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছেন, দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। অর্থ ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ সংবিধানের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবেন না। সংবিধানই সবার ওপরে।
এর আগে সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, ভোট চুরির প্রতিবাদে আয়োজিত এই সমাবেশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ নারী, তরুণ এবং দলিত জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে খাড়গে বলেন, তিনি আত্মগোপন করলেও তাঁকে খুঁজে বের করা হবে। জনগণ, নারী ও তরুণদের অধিকার রক্ষায় তাঁরা লড়াই অব্যাহত রাখবেন।
সমাবেশে উত্তাপ ছড়ান রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবও। রামলীলা ময়দানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, সাধারণত এই ময়দানে রামায়ণ পাঠ হয়, কিন্তু আজ এখানে চলছে মহাভারতের লড়াই। শকুনি তাঁর চাল চাললে এই ময়দানকে কুরুক্ষেত্রে পরিণত করতে হবে।
জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ক্রীড়নক’ আখ্যা দিয়ে তেজস্বী বলেন, এই জ্ঞানু (জ্ঞানেশ কুমার) মোদীর হাতের পুতুল।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিরোধীদের এমন ধারাবাহিক আক্রমণে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




মন্তব্যসমূহ (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!