বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ লাইভ টিভি ই-পেপার

কপিরাইট © ২০২৬ পায়রা টিভি । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে দেশত্যাগীরা, কঠোর হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

মিজানুর রহমান (ভেরিফাইড) | ২ ঘণ্টা আগে | ১৮ বার পড়া হয়েছে
ফন্ট:

গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে শ্রমিকদের দাবির আড়ালে দেশের গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন কলকারখানায় ভাঙচুর, যন্ত্রপাতি নষ্ট ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত গার্মেন্টস শিল্প কোনো অবস্থাতেই ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে লাখ লাখ মা-বোন ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ করেন। এই শিল্প তাঁদের কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তাই কোনো শ্রমিক নিজের কর্মস্থল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রয়েছে, সরকার সে বিষয়ে অবগত। দাবিগুলো বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৫-১৬ বছরেও একটি মহল দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা এখন সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

মোংলা বন্দরে ৪ হাজার ৯০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৪ হাজার ৯০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রকল্পের আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে বন্দরের প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় দুটি আধুনিক জেটি, লোডেড কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কনটেইনার ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ সড়ক, প্রশাসনিক ভবন ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি স্থাপন করা হবে প্রয়োজনীয় ৪৯টি যন্ত্রপাতি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ঘণ্টায় ৩০টিতে উন্নীত হবে এবং বছরে চার লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জিত হবে।

প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাকি অর্থের জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার।

এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ২৫ মার্চ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসির মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমান খান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর

মোংলা বন্দর থেকে বাগেরহাটে এসে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রটোকল ভেঙে হাত মেলান এবং কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মোংলা থেকে বাগেরহাট আসার পথে এবং পরে খুলনায় যাওয়ার সময়ও সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

জাতীয়

মন্তব্যসমূহ (০)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!

গার্মেন্টস শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে দেশত্যাগীরা, কঠোর হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

০৫ November ২০২৬
পায়রা টিভি
www.payratv.com payratv payratvbd
প্রতি মুহূর্তে সত্যের সন্ধানে
পায়রা টিভি