‘ঠিকানা’ সিনেমা নিয়ে আইনি জটিলতা, প্রযোজককে পাল্টা প্রশ্ন শরিফুল রাজের
\'ঠিকানা’ সিনেমাকে ঘিরে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা শরিফুল রাজ। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে অভিনেতাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সিনেমাটির প্রযোজক শাহরিন আক্তার। নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রযোজক।
এবার এ ঘটনায় মুখ খুলেছেন শরিফুল রাজ। প্রযোজকপক্ষের অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের মূল দাবি আসলে টাকা, নাকি শুটিংয়ের শিডিউল? তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একেক সময় একেক ধরনের কথা বলছেন প্রযোজকপক্ষ।
আইনি নোটিশ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ বলেন, ‘একবার বলে টাকার কথা, আমি নাকি টাকা দিচ্ছি না। আবার বলে শিডিউলের কথা। তারা আসলে কী চায়? টাকা চাইলে নিয়ে যাক। আর যদি শিডিউল চায়, সেটা তো অবশ্যই দেব। আমি তো সিনেমা করতে এসেছি। আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টাকা নিয়ে শিডিউল দিইনি, এমন কেউ বলতে পারবে না। আমি সব সময় সিনেমাই করব।’
আসন্ন ঈদে ‘ঠিকানা’ সিনেমা মুক্তি এবং অন্য ছবিতে কাজ করার বিষয়ে নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন এই অভিনেতা। তাঁর দাবি, ঈদে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও চুক্তিতে অন্য কোনো সিনেমায় কাজ করা যাবে না—এমন শর্ত ছিল না। এমনকি প্রযোজকের পাঠানো আইনি নোটিশেও সিনেমাটি ঈদের পর মুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজ বলেন, ‘সিনেমাটি ঈদেই আসবে। আর কোনো সিনেমা করা যাবে না, বিষয়টা এমন নয়। তাদের ইচ্ছা ঈদে মুক্তি দেবে, ওকে। কিন্তু অন্য কোনো সিনেমা করা যাবে না—এটা তো চুক্তিতে নেই। আবার তাদের সিনেমা ঈদে আসবে, এটাও তো নয়। নোটিশেই ঈদের পরে মুক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। আমরা সেভাবেই কাজটি করতে পারতাম। কিন্তু পেশাগত জায়গায় শিডিউল নিয়ে এমন অভিযোগ ও আইনি নোটিশ আমাকে হতবাক করছে।’
চুক্তির শর্ত নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন শরিফুল রাজ। তাঁর ভাষ্য, চুক্তির ৪.১১ ধারা এবং আইনি নোটিশের দ্বিতীয় ধারায় সিনেমাটির মুক্তি ও শিডিউলসংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তবে সিনেমাটি ঠিক কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে শিডিউল নিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানোয় তিনিও আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজ আরও বলেন, ‘এখন আমিও আইনিভাবে কথা বলব। চুক্তির ভিন্নতা নিয়ে অনেক কিছুই বলতে পারি। আমার কাজ শিডিউল দেওয়া, শুটিং করা। এখন বছরে তো আমি একটা ছবি করছি না। যাই হোক, পেশাগত জায়গায় এসব বিষয়ের চেয়ে কাজ নিয়ে বেশি ভাবতে চাই। প্রযোজক-পরিচালকের প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান রয়েছে। আশা করি, তাঁরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন।’
এদিকে আইনি নোটিশকে কেন্দ্র করে প্রযোজক ও অভিনেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ‘ঠিকানা’ সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। চুক্তির শর্ত, শুটিংয়ের শিডিউল ও মুক্তির সময়সূচি নিয়ে এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে গড়ায়, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়—এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

মন্তব্যসমূহ (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!